BRONCHITIS:
মুরগীর ব্রংকাইটিস (Infectious Bronchitis – IB) হলো একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা Coronavirus দ্বারা হয়। এটি মূলত শ্বাসনালীকে সংক্রমণ করে, তবে ডিম পাড়া মুরগির প্রজননাঙ্গ ও কিডনিতেও প্রভাব ফেলে। ব্রংকাইটিস সব বয়সের মুরগিতে দেখা যায়, তবে বাচ্চা মুরগিতে সবচেয়ে ক্ষতিকর।
রোগের বৈশিষ্ট্যঃ
- অত্যন্ত সংক্রামক
- বাচ্চা মুরগির মধ্যে দ্রুত ছড়ায়
- ডিম উৎপাদন কমিয়ে দেয় এবং ডিমের মান খারাপ করে
- মৃত্যুহার সাধারণত কম হয় (ভাইরাস স্ট্রেইন অনুযায়ী), কিন্তু অর্থনৈতিক ক্ষতি বেশি হয়
সংক্রমণের পথঃ
- প্রধানত শ্বাসনালী (নাক ও মুখ থেকে)
- বাতাসে ভাইরাসের এয়ারড্রপলেটস
- সংক্রমিত মুরগির মল, পানির মাধ্যমে ছড়ানো
- ডিমের খোসার মাধ্যমে নয়, তবে ভাইরাস পাখির শরীরে থাকতে পারে
- মানুষ ও সরঞ্জাম দ্বারা অপ্রত্যক্ষ সংক্রমণ
লক্ষণ (Symptoms)ঃ
সনাক্তযোগ্য লক্ষণঃ
- কাশি, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট
- নাক ও চোখ থেকে পানি/শিরা নির্গমন
- মাথা ধরা বা নিচু রাখা
- খাবার কম খাওয়া, মন্দ বৃদ্ধি
- ডায়রিয়া কিছু স্ট্রেইনে দেখা যায়
প্রজনন ও ডিমের উপর প্রভাবঃ
- লেয়ার মুরগিতে ডিম উৎপাদন হঠাৎ কমে যায়
- ডিমের খোসা পাতলা, অস্বাভাবিক বা ভাঁজ ধরণের হতে পারে
- ফার্মে ডিমের মান ও ওজন কমে যায়
বাচ্চা মুরগিতে (Chicks)ঃ
- শ্বাসনালীর প্রদাহ ও শ্বাসকষ্ট
- বৃদ্ধিতে বাধা
- স্ট্রেস হলে সংক্রমণ তীব্র হয়
পোস্ট-মর্টেম লক্ষণ (Post-mortem lesions)ঃ
- শ্বাসনালীতে সেরোস-মিউকাস জমা
- ট্র্যাকিয়ায় রক্তক্ষরণ, ফ্লেমিং
- কিডনিতে ফোঁড়া বা স্ফীতকরণ (কিছু স্ট্রেইনে)
- এয়ারস্যাকে প্রদাহ
প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণঃ
১. ভ্যাকসিনেশনঃ
- লাইভ ভ্যাকসিন (যেমন H120, Ma5)
- কিল্ড ভ্যাকসিন: লেয়ার ও ব্রিডার মুরগিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধের জন্য
- ভ্যাকসিন শিডিউল অনুযায়ী দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
২. বায়োসিকিউরিটিঃ
- খামার পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখা
- বাইরের লোক ও যানবাহনের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ
- নতুন মুরগি আলাদা রাখা (quarantine)
৩. সাপোর্টিভ কেয়ারঃ
- ভিটামিন, ইলেকট্রোলাইট দিয়ে মুরগিকে স্ট্রেস মুক্ত রাখা
- সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ প্রতিরোধে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার (ডাক্তারের পরামর্শে)
অর্থনৈতিক ক্ষতিঃ
- ডিম উৎপাদন ও মানে হ্রাস
- বৃদ্ধি কমে যাওয়া
- চিকিৎসা ও ভ্যাকসিনের খরচ
- সংক্রমণের দ্রুত ছড়ানোর কারণে খামারের বড় ক্ষতি
💡 নোটঃ ব্রংকাইটিস সাধারণত নিউক্যাসল ডিজিজ বা মাইকোপ্লাজমা সংক্রমণের সঙ্গে মিলিয়ে আসে। তাই সঠিক রোগ নির্ণয় এবং প্রতিরোধের জন্য ভ্যাকসিন শিডিউল মেনে চলা ও বায়োসিকিউরিটি বজায় রাখা জরুরি।