COCCIDIOSIS (কক্সিডিওসিস):
কক্সিডিওসিস হলো Eimeria নামক প্রোটোজোয়া পরজীবীর সংক্রমণ, যা অন্ত্রের আস্তরণ নষ্ট করে। এটি সরাসরি মৃত্যুর পাশাপাশি খাদ্য রূপান্তর হার (FCR) নষ্ট করে বড় আর্থিক ক্ষতি করে। ভেজা লিটার এই রোগের প্রধান সহায়ক।
রোগের বৈশিষ্ট্যঃ
- Eimeria-র বিভিন্ন প্রজাতি অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে আক্রমণ করে
- ওসিস্ট লিটারে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে
- উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে দ্রুত ছড়ায়
- বাচ্চা ও বাড়ন্ত বয়সে বেশি দেখা যায়
সংক্রমণের পথঃ
- আক্রান্ত পাখির মলের ওসিস্ট খাওয়ার মাধ্যমে
- ভেজা ও দলা বাঁধা লিটার
- দূষিত জুতা, সরঞ্জাম ও ফিড ছিটানো মেঝে
লক্ষণঃ
- রক্তমিশ্রিত বা চকলেট রঙের পায়খানা (প্রজাতিভেদে)
- শ্লেষ্মাযুক্ত বা কমলাটে পাতলা পায়খানা
- ঝিমানো, পালক ফোলানো, একসঙ্গে জড়ো হয়ে বসে থাকা
- খাবার কমে যাওয়া, ওজন কমা ও ফ্লকে অসমতা
- ঝুঁটি ফ্যাকাশে (রক্তস্বল্পতা)
পোস্ট-মর্টেম লক্ষণঃ
- সিকামে রক্ত জমাট (সিকাল কক্সিডিওসিস)
- ছোট অন্ত্রের দেয়াল পুরু, সাদা ছোপ বা বিন্দু রক্তক্ষরণ
- অন্ত্রে শ্লেষ্মা ও রক্তমিশ্রিত উপাদান
- অন্ত্রের বাইরে থেকে দেখা যায় এমন সাদা/লালচে দাগ
প্রতিরোধঃ
- লিটার শুকনো রাখা — সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা
- লিক করা ড্রিঙ্কার দ্রুত মেরামত, ড্রিঙ্কারের উচ্চতা ঠিক রাখা
- ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ ও বাতাস চলাচল
- ব্যাচের মাঝে লিটার সম্পূর্ণ সরানো ও শেড শুকানো
- প্রতিরোধমূলক প্রোগ্রাম (কক্সিডিওস্ট্যাট বা ভ্যাকসিন) — কোনটি, কখন ও কতটা তা ভেটেরিনারিয়ান নির্ধারণ করবেন
⚠️ নোটঃ ওষুধের নাম, মাত্রা ও প্রয়োগকাল এখানে ইচ্ছাকৃতভাবে দেওয়া হয়নি — ভুল মাত্রা রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে এবং মাংস-ডিমে অবশিষ্টাংশ রেখে যায়। ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ নিন এবং উইথড্রয়াল সময় মেনে চলুন।