GUMBORO / INFECTIOUS BURSAL DISEASE (IBD):
গাম্বোরো হলো Birnavirus দ্বারা সৃষ্ট রোগ, যা বাচ্চা মুরগির বার্সা অব ফ্যাব্রিসিয়াস নষ্ট করে। বার্সা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারখানা — তাই গাম্বোরোর সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো ফ্লকের ইমিউনিটি ভেঙে পড়া এবং অন্য রোগ ও ভ্যাকসিন ব্যর্থতা।
রোগের বৈশিষ্ট্যঃ
- মূলত অল্প বয়সী মুরগিতে হয়
- খুব দ্রুত ছড়ায়, ভাইরাস পরিবেশে দীর্ঘদিন টিকে থাকে
- মৃত্যুহার হঠাৎ বেড়ে আবার দ্রুত কমে যায় (স্পাইক আকৃতি)
- বেঁচে যাওয়া পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে
সংক্রমণের পথঃ
- আক্রান্ত পাখির মল
- দূষিত লিটার, ফিড, পানি ও যন্ত্রপাতি
- মানুষের জুতা-পোশাক; ভাইরাস সাধারণ জীবাণুনাশকে সহজে মরে না
লক্ষণঃ
- হঠাৎ ঝিমিয়ে পড়া, পালক ফোলানো, মাথা নিচু
- সাদাটে বা পানির মতো পাতলা পায়খানা, ক্লোয়াকার চারপাশ নোংরা
- নিজের ক্লোয়াকায় ঠোকর দেওয়া
- খাবার-পানি গ্রহণ কমে যাওয়া, পানিশূন্যতা
- কাঁপুনি ও অস্থিরতার পর দ্রুত নিস্তেজ হয়ে পড়া
পোস্ট-মর্টেম লক্ষণঃ
- বার্সা প্রথমে ফুলে যায়, জেলির মতো আবরণ থাকে; পরে ছোট ও শুকিয়ে যায়
- বার্সায় রক্তক্ষরণ
- রানের ও বুকের মাংসপেশিতে রক্তক্ষরণের দাগ
- কিডনি ফোলা ও ইউরেট জমা (পানিশূন্যতার কারণে)
প্রতিরোধঃ
- মাতৃ অ্যান্টিবডি বিবেচনা করে ভ্যাকসিনের সময় নির্ধারণ — সময় ভুল হলে ভ্যাকসিন কাজ করে না। সূচি ভেটেরিনারিয়ান/হ্যাচারি দেবে
- শেড ও সরঞ্জামের কঠোর পরিষ্কার-জীবাণুমুক্তকরণ; ভাইরাস প্রতিরোধী জীবাণুনাশক ব্যবহার
- ব্যাচের মাঝে যথেষ্ট ডাউনটাইম
- অল-ইন অল-আউট ও দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণ
⚠️ নোটঃ গাম্বোরোর সরাসরি চিকিৎসা নেই। সহায়ক ব্যবস্থাপনা (পানিশূন্যতা রোধ, শেডের তাপ ও ধকল কমানো) এবং দ্বিতীয় সংক্রমণের চিকিৎসা ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শে করতে হবে। গাম্বোরোর পর ভ্যাকসিন প্রোগ্রাম পর্যালোচনা করুন — ইমিউনিটি ভেঙে গেলে অন্য ভ্যাকসিনও ব্যর্থ হয়।