NEWCASTLE DISEASE (রাণীক্ষেত):
রাণীক্ষেত বা নিউক্যাসল ডিজিজ (ND) হলো Paramyxovirus (APMV-1) দ্বারা সৃষ্ট অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। বাংলাদেশে এটি পোল্ট্রির অন্যতম বড় ক্ষতির কারণ। ভাইরাসের স্ট্রেইন অনুযায়ী রোগের তীব্রতা কম বা মারাত্মক হতে পারে।
রোগের বৈশিষ্ট্যঃ
- সব বয়সের মুরগি আক্রান্ত হয়
- তীব্র স্ট্রেইনে মৃত্যুহার খুব বেশি হতে পারে
- শ্বাসনালী, পরিপাকতন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্র — তিনটিতেই প্রভাব ফেলে
- লেয়ারে ডিম উৎপাদন হঠাৎ পড়ে যায়
সংক্রমণের পথঃ
- আক্রান্ত পাখির নিঃশ্বাস ও মলের মাধ্যমে
- দূষিত পানি, ফিড, লিটার ও যন্ত্রপাতি
- মানুষের জুতা, পোশাক ও গাড়ি
- বন্য পাখি ও কবুতর
লক্ষণ (Symptoms)ঃ
শ্বাসনালীঃ
- হাঁ করে শ্বাস নেওয়া, ঘড়ঘড় শব্দ, কাশি ও হাঁচি
- নাক-চোখ দিয়ে পানি পড়া
পরিপাকতন্ত্রঃ
- সবুজাভ বা সাদাটে পাতলা পায়খানা
- খাবার কমে যাওয়া, ঝিমানো
স্নায়বিকঃ
- ঘাড় বাঁকা হয়ে যাওয়া (torticollis), চক্রাকারে ঘোরা
- পা বা ডানার পক্ষাঘাত, কাঁপুনি
ডিমের উপরঃ
- উৎপাদন হঠাৎ কমে যাওয়া
- খোসাবিহীন, পাতলা বা বিবর্ণ ডিম
পোস্ট-মর্টেম লক্ষণঃ
- প্রোভেন্ট্রিকুলাসের গ্রন্থিমুখে বিন্দু বিন্দু রক্তক্ষরণ
- অন্ত্রে ও সিকাল টনসিলে রক্তক্ষরণ ও আলসার
- ট্র্যাকিয়ায় প্রদাহ ও রক্তক্ষরণ
- এয়ারস্যাকে ঘোলাটে আবরণ
প্রতিরোধঃ
- নিয়মিত ভ্যাকসিনেশন — সূচি ও ধরন ভেটেরিনারিয়ান/হ্যাচারি নির্ধারণ করবেন
- কঠোর বায়োসিকিউরিটি ও অল-ইন অল-আউট
- বন্য পাখি ও কবুতরের প্রবেশ ঠেকানো
- মৃত পাখি দ্রুত ও নিরাপদে নিষ্পত্তি
- প্রাদুর্ভাবের সময় পাখি, ডিম ও সরঞ্জাম খামারের বাইরে না নেওয়া
⚠️ নোটঃ রাণীক্ষেতের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই — ভাইরাসজনিত রোগ, তাই প্রতিরোধই একমাত্র ভরসা। সহায়ক চিকিৎসা ও দ্বিতীয় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ওষুধ লাগলে তার নাম ও মাত্রা রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ান নির্ধারণ করবেন। সন্দেহ হলে দ্রুত নমুনা পাঠিয়ে নিশ্চিত করুন।