SALMONELLOSIS (সালমোনেলা):
সালমোনেলা একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। পোল্ট্রিতে প্রধানত Salmonella Pullorum/Gallinarum (পুলোরাম ডিজিজ ও ফাউল টাইফয়েড) এবং Salmonella Enteritidis/Typhimurium দেখা যায়। শেষোক্তগুলো পাখিতে সবসময় লক্ষণ তৈরি না করলেও মানুষের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
রোগের বৈশিষ্ট্যঃ
- ডিমের মাধ্যমে মা থেকে বাচ্চায় যেতে পারে (উল্লম্ব সংক্রমণ)
- বাচ্চা বয়সে মৃত্যুহার বেশি
- বেঁচে যাওয়া পাখি বাহক হয়ে থেকে যেতে পারে
- জুনোটিক — মানুষেও খাদ্যের মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটাতে পারে
সংক্রমণের পথঃ
- সংক্রমিত হ্যাচিং এগ ও হ্যাচারি
- আক্রান্ত পাখির মল, দূষিত ফিড ও পানি
- ইঁদুর, বন্য পাখি, পোকা ও নোংরা সরঞ্জাম
- মানুষের জুতা, পোশাক ও ডিমের ট্রে
লক্ষণঃ
বাচ্চায়ঃ
- সাদা চুনের মতো আঠালো পায়খানা, ক্লোয়াকা আটকে যাওয়া
- ঝিমানো, একসঙ্গে জড়ো হওয়া, ডাকাডাকি
- নাভি ভালোভাবে না শুকানো, হ্যাচারিতে বেশি মৃত্যু
বড় পাখিতেঃ
- ঝুঁটি ফ্যাকাশে বা নীলাভ, ঝিমানো
- সবুজাভ-হলুদ পাতলা পায়খানা
- ডিম উৎপাদন কমে যাওয়া, উর্বরতা ও হ্যাচাবিলিটি হ্রাস
পোস্ট-মর্টেম লক্ষণঃ
- লিভার বড়, ব্রোঞ্জ রঙা বা সাদা ছোপযুক্ত
- প্লীহা বড় হওয়া
- হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ও গিজার্ডে সাদা নডিউল
- ডিম্বাশয়ের ফলিকল বিকৃত, ঝুলে পড়া বা বিবর্ণ
- বাচ্চায় শোষিত না হওয়া কুসুম থলি
প্রতিরোধঃ
- সালমোনেলামুক্ত সোর্স থেকে বাচ্চা সংগ্রহ ও হ্যাচারির নজরদারি
- হ্যাচিং এগ পরিষ্কার সংগ্রহ ও সঠিক সংরক্ষণ; নোংরা ডিম সেট না করা
- ইঁদুর ও বন্য পাখি নিয়ন্ত্রণ — বড় ঝুঁকির উৎস
- ফিড ও পানির মান নিশ্চিত করা, পানির লাইন পরিষ্কার রাখা
- ব্যাচের মাঝে কঠোর পরিষ্কার-জীবাণুমুক্তকরণ ও ডাউনটাইম
- নিয়মিত পরীক্ষা ও পজিটিভ ফ্লকের ক্ষেত্রে ভেটেরিনারিয়ানের নির্দেশনা মেনে চলা
⚠️ নোটঃ চিকিৎসায় লক্ষণ কমলেও পাখি বাহক থেকে যেতে পারে, এবং যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ও খাদ্যে অবশিষ্টাংশ তৈরি করে। তাই ওষুধ, মাত্রা ও উইথড্রয়াল সময় অবশ্যই রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ান নির্ধারণ করবেন। ডিম ও মাংস নাড়াচাড়ার পর হাত ধোয়া — খামারকর্মীর নিজের সুরক্ষার জন্যও জরুরি।