আলো শুধু দেখার জন্য নয় — আলো মুরগির খাওয়া, বিশ্রাম, বৃদ্ধি ও ডিমে আসার সময় নিয়ন্ত্রণ করে। লাইটিং প্রোগ্রাম মানে কতক্ষণ আলো, কতটা উজ্জ্বল এবং কখন অন্ধকার — এই তিনটির নিয়ন্ত্রণ।
🟢 ১. আলো কী কাজ করে
- বাচ্চা বয়সে আলো ফিড ও পানি চিনতে সাহায্য করে।
- অন্ধকার সময় পাখিকে বিশ্রাম দেয়, হাড়ের গঠন ও রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
- লেয়ার ও প্যারেন্ট স্টকে দিনের আলোর দৈর্ঘ্য বাড়ানো-কমানো ডিমে আসার সময় নিয়ন্ত্রণ করে।
🟢 ২. প্রোগ্রামের নীতি
- আলোর ঘণ্টা ও তীব্রতার নির্দিষ্ট সূচি ব্রিড অনুযায়ী আলাদা — ব্রয়লার, কালার, লেয়ার ও PS-এর জন্য এক নয়। সংখ্যা আপনার ব্রিডার গাইড বা কোম্পানির নির্দেশনা থেকে নিন।
- রিয়ারিং পর্যায়ে দিনের আলোর দৈর্ঘ্য বাড়ানো যাবে না, আর উৎপাদন পর্যায়ে কমানো যাবে না — এই দুটি নিয়ম প্রায় সব প্রোগ্রামে এক।
- পরিবর্তন ধাপে ধাপে করুন, হঠাৎ নয়।
🟢 ৩. আলোর সমতা
- শেডের সব জায়গায় সমান আলো থাকতে হবে; অন্ধকার কোণে পাখি জমে যায় ও খাওয়া কমে।
- বাল্বের দূরত্ব ও উচ্চতা সমান রাখুন, লাইনের মাঝে যেন ছায়া না পড়ে।
- ধুলো জমা বাল্ব অনেক আলো কমিয়ে দেয় — নিয়মিত মুছুন।
- নষ্ট বাল্ব সঙ্গে সঙ্গে বদলান; একটি বাল্ব নষ্ট মানে ওই অংশের পাখি কম খাচ্ছে।
🟢 ৪. অন্ধকার সময়
- টানা অন্ধকার দিলে পাখি বিশ্রাম পায়; বারবার আলো জ্বালানো-নেভানো স্ট্রেস বাড়ায়।
- অন্ধকার শুরুর আগে ফিডার ও ড্রিঙ্কারে পর্যাপ্ত ফিড-পানি আছে কি না দেখুন।
- বিদ্যুৎ চলে গেলে যেন হঠাৎ পুরো শেড অন্ধকার না হয় — ব্যাকআপ রাখুন, নয়তো পাখি এক জায়গায় জমে চাপা পড়ে।
🟢 ৫. সমস্যার লক্ষণ
- ঠোকরাঠুকরি (pecking) বেড়ে গেলে আলো বেশি উজ্জ্বল কি না দেখুন।
- এক পাশে পাখি জমে থাকলে আলোর অসমতা বা ড্রাফট খুঁজুন।
- ডিম উৎপাদনে হঠাৎ পতন হলে সবার আগে লাইট টাইমার ও বাল্ব চেক করুন — অনেক সময় কারণ এটাই।
✅ মূলকথাঃ লাইটিং প্রোগ্রাম একবার ঠিক করে লিখে রাখুন এবং প্রতিদিন সেটাই মানুন। টাইমার, বাল্ব ও রেকর্ড — এই তিনটা ঠিক থাকলে লাইটিং সমস্যা প্রায় হয় না।