লিটার হলো মুরগির বিছানা, শোষক ও তাপ ধরে রাখার স্তর। ভালো লিটার মানে শুকনো, ঝরঝরে ও দলামুক্ত। লিটার খারাপ হলে অ্যামোনিয়া, কক্সিডিওসিস, পায়ের ঘা ও শ্বাসকষ্ট — সবই একসাথে আসে।
🟢 ১. উপকরণ নির্বাচন
- ধানের তুষ, কাঠের গুঁড়া বা কাটা খড় — যা-ই ব্যবহার করুন, তা শুকনো, পরিষ্কার ও ছত্রাকমুক্ত হতে হবে।
- ভেজা বা পুরোনো জমা তুষ ব্যবহার করবেন না — এতে ছত্রাকের স্পোর থাকে।
- খুব মিহি গুঁড়া ধুলো তৈরি করে, খুব মোটা উপকরণ শোষণ করে না।
- লিটারের পুরুত্ব ঋতু ও শেড অনুযায়ী ঠিক করুন — শীতে তুলনামূলক বেশি, গরমে কম।
🟢 ২. আর্দ্রতা বোঝার সহজ পরীক্ষা
- এক মুঠো লিটার হাতে নিয়ে চাপ দিন — ছেড়ে দিলে ভেঙে ঝরে পড়লে আর্দ্রতা ঠিক আছে।
- দলা বেঁধে থাকলে ভেজা, হাত থেকে ধুলো উড়লে খুব শুকনো।
- ভেজা লিটার সঙ্গে সঙ্গে তুলে ফেলুন, নতুন শুকনো লিটার দিন।
🟢 ৩. ভেজা লিটারের কারণ খুঁজুন
- লিক করা ড্রিঙ্কার বা পানির লাইন — সবচেয়ে সাধারণ কারণ।
- ড্রিঙ্কারের উচ্চতা ভুল থাকলে পাখি পানি ছিটায়।
- বাতাস চলাচল কম হলে বাষ্প বেরোতে পারে না।
- পাতলা পায়খানা (এন্টেরাইটিস, কক্সিডিওসিস) — এ ক্ষেত্রে ভেটেরিনারিয়ানকে জানান।
- ছাদ বা দেয়াল দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢোকা।
🟢 ৪. অ্যামোনিয়া
- শেডে ঢুকে চোখ জ্বালা করলে বা ঝাঁঝালো গন্ধ পেলে বুঝবেন অ্যামোনিয়া বেশি — মুরগির উচ্চতায় দাঁড়িয়ে নয়, বসে গন্ধ নিন।
- অ্যামোনিয়া শ্বাসনালীর সুরক্ষা স্তর নষ্ট করে, ফলে ভ্যাকসিন কম কাজ করে ও শ্বাসনালীর রোগ সহজে ধরে।
- সমাধান — ভেজা অংশ সরানো, বাতাস চলাচল বাড়ানো, লিটার ঘন ঘন নাড়া।
🟢 ৫. দৈনিক ও সাপ্তাহিক কাজ
- প্রতিদিন — ড্রিঙ্কারের চারপাশ দেখা, দলা ভাঙা, ভেজা অংশ তোলা।
- নিয়মিত — লিটার উল্টে-পাল্টে দেওয়া, প্রয়োজনে উপরে নতুন স্তর দেওয়া।
- লিটার নাড়ার সময় ধুলো ওড়ে, তাই মাস্ক ব্যবহার করুন এবং পাখির বিশ্রামের সময় এড়িয়ে চলুন।
🟢 ৬. ব্যাচ শেষে
- ব্যবহৃত লিটার শেড ও পানির উৎস থেকে দূরে সরিয়ে ফেলুন।
- খামারের পাশে স্তূপ করে রাখলে মাছি, ইঁদুর ও রোগজীবাণুর ভাণ্ডার তৈরি হয়।
✅ মূলকথাঃ লিটার শুকনো রাখা মানে অর্ধেক রোগ ঠেকিয়ে দেওয়া। প্রতিদিন পাঁচ মিনিটের লিটার চেক পরে অনেক ওষুধের খরচ বাঁচায়।